একেক জন থেকে অন্য জনের ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, উচ্চতা, বয়স, অবস্থা হয়ত আলাদা। একেক জনের চেহারার সাথে আরেক জনের চেহারার মিল নেই । কিন্তু এখন সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছে।
তারিখটা ১লা বৈশাখ ১৪২২ (১৪ এপ্রিল ২০১৫)
কেউ তালিকা ভুক্তির কাজ করছেন কেউ লাইনে দাঁড় করানোর কাজে ব্যস্ত। আর লাইনে দাঁড়ানো মানুষগুলো অপেক্ষা করছেন বিনামূল্যে নিজেদের রক্তের গ্রুপ জানার জন্য। সারাদিন রৌদ্রের মধ্যে দাঁড়িয়ে কাজ করে গেছে ‘আমরা কাঞ্চন পৌরবাসী সংগঠন’। কারো হাত ধরে অনুরোধ পর্যন্ত করেছে ফ্রিতে যেন রক্তের গ্রুপ টা জেনে নেন। কেও দয়া করে সাড়া দিয়েছেন, কেউবা অবহেলার চোখে দেখেছেন।
আয়োজনের শুরুটা সেই সকাল থেকে। নীরব একটি মিছিল হয়েছিল, কাঞ্চন বাজারের এক মাথা থেকে অন্য মাথা পর্যন্ত। এমনটা কেও কখন ভাবে নি, মুখে কথা না বলেও অনেক কথা বলা হয়ে যায়।
এই পরিকল্পনার সৃষ্টি বা জন্ম তাঁর ও আগ থেকে, সেই ০৫/১০/২০১৪। একজন দুইজন করে হাটিহাটি পা পা করে চলা তারও অনেক আগে এক তরুণের একটু সৎ চিন্তা আর সেই চিন্তাটাকে আঁকড়ে ধরে আজকের ‘আমরা কাঞ্চন পৌরবাসী সংগঠন’ এর সকল তরুণদের পথ চলা।
এতো আয়োজন এতো কিছু কিন্তু কেন?
উত্তরটা সহজঃ কেউ একজন আসবেন, তাঁর জন্যই এতো সব। আর সেই আগুন্তুকের আসার অপেক্ষায় এগিয়ে চলা।
কিন্তু একটি দুটি কাজ করেই সেই আগুন্তুকের আসার অপেক্ষায় ‘আমরা কাঞ্চন পৌরবাসী সংগঠন’ থেমে থাকে নি।
ধীরে ধীরে এগিয়ে চলেছে, একের পরে এক। অবৈধ ভাবে যারা ট্রলারে করে স্বপড়ব দেখে মালয়েশিয়া যাওয়ার, তাদের সচেতন করতে ২৩ এপ্রিল ২০১৫ কলাতলি স্কুল মাঠে ও ৫ই মে ২০১৫ রানীপুরায় বড় পর্দায় প্রদর্শন করা হয়, পাড়ি নাটক।
৭ আগস্ট ২০১৫ তারিখ রμবার কালাদী-নলপাথর ৮ আগস্ট ২০১৫ তারিখ শনিবার চৌধুরীপাড়া ঈদগাহ ও চরপাড়া কালভার্ট এলাকায় বৃক্ষ রোপণ
০৪/০৯/২০১৫তারিখ মৎস্য অবমুক্তকরণ
২০১৫ এর ডিসেম্বরে শীতবস্ত্র বিতরণ
অপেক্ষার প্রহর দিন দিন বৃদ্ধি পেতে লাগলো। এটা এমন এক অপেক্ষা যার জন্য কষ্ট কিছুটা থাকলেও আনন্দটাই বেশী। তার ধারাবাহিকতায় দিন যাচ্ছে মাস যাচ্ছে, বছর যাচ্ছে। তবুও অপেক্ষায়, কেউ একজন আসবেন। তারই ধারাবাহিকতায় আবারো বৃক্ষরোপণ ০৫জুন ২০১৬ সকাল ৭টায় চৌধুরীপাঁড়া ঈদগাঁহ মাঠ ও কবরস্থান, কাঞ্চন ভারত চন্দ্র উচ্চবিদ্যালয়,সলিমউদ্দিন চৌধুরী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, কেন্দুয়া শিমুলীয়া ঘাট রাস্তা এবং বিরাব কবরস্থান।
১লা বৈশাখ ১৪২২ (১৪ এপ্রিল ২০১৫) থেকে শুরু হয়ে আজ পর্যন্ত মানব সেবেয় রক্ত দান তো চলছেই।
এভাবেই চলছে একজন আসার প্রতিক্ষা।
তিনি কি এসেছিলেন?
হ্যাঁ, তিনি প্রতিটি কাজেই ‘আমরা কাঞ্চন পৌরবাসী সংগঠন’ এর মাঝে এসেছিলেন, পরে আমাদের হাতে হাত রেখে কাজ করে গেছেন। পরিশ্রমটাকে তিনি মাপ কাঠি দিয়ে কখনো মেপে দেখেন নি, যেটি করেছেন সেটা হলো, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, উচ্চতা, বয়স, অবস্থা ইত্যাদি ভুলে গিয়ে শুধু কাজ আর কাজ করে যাচ্ছেন। নিজের লাভের থেকেও বেশী ভেবেছেন, নিজের সমাজের কথা। ‘আমরা কাঞ্চন পৌরবাসী সংগঠন’কে অবহেলার চোখে দেখেন নি কখনো। বরং দিন দিন কিভাবে এই সংগঠনকে আরও বিশাল থেকে বিশাল মাত্রায় নিয়ে যাওয়া যায় তার জন্য শুভকামনা জানিয়ে গেছেন।
আজও তিনি এসেছেন। জানি, তিনি ‘আমরা কাঞ্চন পৌরবাসী সংগঠন’কে কখন হতাস করেন নি, করবেনও
না, এটা আমাদের চিরকালের বিশ্বাস। সেই একই ভালোবাসা ও স্বতঃস্ফূর্ততায় ‘আমরা কাঞ্চন পৌরবাসী
সংগঠন’কে নিয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবেন, এই প্রত্যাশা আজীবনের।
কে সে?
ও হ্যাঁ, যার জন্য এতো অপেক্ষা সেটা কিন্তু আপনি, আপনি নিজে। থাকছেন তো আবার নতুন কোন অতিথিকে খোঁজার
অপেক্ষায়? চলুন, আমরা আজ একসাথে একটু ভাবি আমাদের পরবর্তী প্রোগ্রামটা কি হতে পারে!
কারণ?
উত্তরটা সহজঃ কেউ একজন আসবেন।
‘আমরা কাঞ্চন পৌরবাসী সংগঠন’
আপনি সহ আমরা সবাই
শেখক নাজিম উদ্দিন প্রথম প্রকাশ তারিখ

